অতি নাম্বার, আত্মতুষ্টি এবং শিক্ষার আসল মানে: আমরা কি দিশা হারাচ্ছি?


 বাংলাদেশে এখন এমন একটা সময় চলছে যেখানে ৮০-৯০ নম্বর মানেই “অসাধারণ”। আর যদি কোনো শিক্ষার্থী বাংলার মতো সাবজেক্টে ৯৯% নম্বর পায়, তাহলে কি ধরেই নেওয়া হবে—তার খাতায় কোনো একটিও বানান ভুল নেই? তার হাতের লেখা কি দেশের মধ্যে সেরা? অথবা প্রতিটি প্রশ্নে তার উত্তরের মান সমানভাবে চমৎকার?

আমাদের বোর্ড পরীক্ষার নম্বর নীতির দিকে তাকালে এই প্রশ্নগুলো খুবই যৌক্তিক।

🏫 প্লে-গ্রুপ থেকে এইচএসসি পর্যন্ত: আত্মতুষ্টির বীজ

ছোটদের প্লে, নার্সারি, কেজিতে যখন দেখি সবাই ১০০-এ ১০০, তখন মনে হয় আমরা যেন এক ধরনের 'ভুয়া আত্মতুষ্টি' শেখাচ্ছি। তারা ভাবে—

“আমিতো পারফেক্ট!”

কিন্তু এই ‘পারফেকশন’ কি শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য?

এরপর এই সংস্কৃতি গড়িয়ে যায় এসএসসি-এইচএসসি পর্যন্ত। ১৩০০ তে ১৩০০ পেলেই কি সব শেষ?

না। বরং এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত ছিল— নিজেকে আরও জানতে চাওয়া, উন্নতির জায়গা খুঁজে বের করা, আর বিচারক্ষমতার পরিপক্বতা গড়ে তোলা।

---


📊 প্রশ্ন তুলুন, নম্বর নয়!

> “একদিকে ৩২ পেলে পাশ দেন না, আরেকদিকে ৭৯ দিয়েও ৫ টা বিষয়ের এ+ আটকান!”

এই বৈষম্যমূলক মনোভাব শিক্ষার্থীদের ন্যায়বোধকে আঘাত করে। তারা ভাবে:

“আমি এত কষ্ট করেও এ+ পেলাম না, আর সে তো ভুল বানানেও ৯৯ পেল!”

শিক্ষার্থীরা তখন আর শেখার জন্য পড়ে না। পড়ে নাম্বারের জন্য। তখন সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ, ভাবনা— সব হারিয়ে যায়।

---

🎯  বাস্তবতা  vs ফলাফল

আমরা জানি, বাস্তবে ভালো করার জন্য শুধু নাম্বারই যথেষ্ট নয়।

একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী—

প্রশ্নের গঠন বিশ্লেষণ করতে পারে।

নিজের ভুল বুঝে সংশোধন করতে পারে।

শেখাকে ভালোবাসে।

কিন্তু অযৌক্তিক নাম্বার দিয়ে এই নৈতিক মান তৈরি হয় না। বরং তৈরি হয় ভুয়া আত্মবিশ্বাস— "আমার সবই জানা, আর কিছু শেখার নেই!

---

সমাধান কী হতে পারে?

1. বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়ন করুন।

নম্বর এমন হতে হবে যা শিক্ষার্থীর আসল স্কিল এবং উন্নতির সুযোগ উভয়ই তুলে ধরে।

2. বিষয়ের ধরন অনুযায়ী নম্বরের সীমা নির্ধারণ করুন।

ভাষার মতো সাবজেক্টে ৯৫%-এর ওপরে যাওয়ার আগে বিচার করুন— সত্যিই কি লেখা এতটাই নিখুঁত?

3. উত্তরের মানসমতা যাচাই করুন— খাতার প্রথম অংশ আর শেষ অংশ এক মানের কিনা

4. আত্মতুষ্টি নয়, শেখার আকাঙ্ক্ষা গড়ে তুলুন।

---

✍️ শেষ কথা:

> “দিল্লি বহুত দূর।”

শুধু উচ্চ নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়া যায় না। প্রয়োজন যুক্তিসঙ্গত মূল্যায়ন, আন্তরিক পর্যালোচনা, আর শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব।

অতিরিক্ত নাম্বার দিয়ে কেউ খুশি হয় ঠিকই, কিন্তু সেটি যদি সত্যভিত্তিক না হয়, তবে সেই খুশি একদিন ব্যর্থতায় রূপ নেয়।

তাই চলুন, নম্বর নয়—গুণমানে বিশ্বাসী হই।

---

✒ লেখক: মোহাম্মদ আলী

সহকারী প্রধান শিক্ষক |

 ব্লগ: Mamun's Education Blog

📩 Contact: mali2094138@gmail.com


Comments

  1. Reality not matter

    ReplyDelete
  2. আমরাও চিন্তায় আছি। কেমনে হয়।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

"শিক্ষকরা কি অতিরিক্ত ভাতা নিতে পারবেন? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে যা বলা হয়েছে"

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি আবেদন নিষিদ্ধ: মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

এমপিও শিক্ষকের ১ম উচ্চতর স্কেল যোগদান থেকে নাকি বিএড স্কেল থেকে হিসাব হবে ? নীতিমালা ২০২১ বনাম ২০১৮