Posts

শেষ যুগের ফিতনা : দাজ্জাল যখন একজন ঈমানদারের সামনে পড়বে

Image
⭐ দাজ্জালের সাথে একজন ঈমানদারের ঘটনা — হাদিসের আলোকে এক বিস্ময়কর কাহিনি ইসলামি আক্বীদায় দাজ্জাল একটি মহা ফিতনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এই ফিতনা থেকে সতর্ক করে গেছেন এবং দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় একজন দৃঢ় ঈমানদারের সাথে যে অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটবে—তা হাদিসে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। এই ব্লগে আমরা সেই শক্তিশালী, ঈমানদীপ্ত ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরবো, যা মূলত রিয়াদুস সালিহীন ও সহিহ বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত সহিহ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে। --- ⭐ একজন মুমিন দাজ্জালের সামনে দাঁড়াবে হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় একজন প্রকৃত ঈমানদার সাহসের সাথে তার দিকে এগিয়ে যাবে। পথে দাজ্জালের প্রহরীরা তাকে জিজ্ঞাসা করবে: “তুমি কোথায় যাচ্ছ?” সে উত্তর দেবে — “যে মিথ্যাবাদীর (দাজ্জাল) আবির্ভাব হয়েছে, তার কাছে যাচ্ছি।” প্রহরীরা প্রথমে তাকে হত্যা করতে চাইলেও তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বলবে— “আমাদের প্রভু (দাজ্জাল) তো অনুমতি ছাড়া কাউকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।” ফলে তারা তাকে জীবিত অবস্থায় দাজ্জালের সামনে নিয়ে যাবে। --- ⭐ মুমিনের সাহসী ঘোষণা দাজ্জালকে দেখে সেই মুমিন ঘোষণা করবে...

বেসরকারি স্কুল–কলেজ শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা: সংশোধন কাজ শেষ পর্যায়ে

Image
  বেসরকারি স্কুল–কলেজ শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা: সংশোধন কাজ শেষ পর্যায়ে বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বর্তমান বাস্তবতা, মানবিক প্রয়োজন এবং দূরত্বজনিত সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন এটি শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় । 🔰 নীতিমালা কোথায় আছে এখন? শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশোধিত বদলি নীতিমালা প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের দপ্তরে পাঠিয়েছে। তবে দাপ্তরিক ব্যস্ততা ও কাজের চাপের কারণে এটি এখনও অনুমোদন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়— নীতিমালা গত সপ্তাহে সচিবের দপ্তরে গেছে । চেষ্টা চলছে চলতি সপ্তাহে অনুমোদন আনার । তবে সম্ভাবনা বেশি— আগামী সপ্তাহেই এটি প্রকাশ হবে । এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে কাজটি অগ্রাধিকার দিয়ে করা হচ্ছে এবং অনুমোদন পেলেই নীতিমালা প্রকাশ করা হবে। 🔎 সংশোধিত বদলি নীতিমালায় কী থাকছে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি খসড়া অনুযায়ী বদলির ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পাবে। ...

শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলন ও দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার: সত্য উদঘাটনের দাবি

Image
শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে আজ হাজার হাজার শিক্ষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। শুধু শিক্ষক সমাজই নয়, সাধারণ মানুষও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো—এমন এক সময়ে যখন শিক্ষক সমাজ ঐক্যের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করছে, তখনই দৈনিক ইনকিলাব ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শিক্ষক সমাজ এই সংবাদকে গভীর ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষক নেতাদের মতে— > “আজিজী সাহেব শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে যে লড়াই করছেন, তা দেশের মানুষেরও ন্যায্য দাবির সঙ্গে জড়িত। এ আন্দোলনে যখন সবাই একত্রিত হচ্ছে, তখন অপপ্রচার চালিয়ে তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।” বাস্তবতা কী? বাস্তবতা হলো, দেলোয়ার হোসেন আজিজী শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য মাঠে থেকে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষকদের আন্দোলন ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং বাকি দাবি আ...

জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪: গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক যাত্রাপথ

Image
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই মাস এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর দেশের জনগণ এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে যাত্রা শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয় **“জুলাই ঘোষণাপত্র”**, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষা, অতীতের রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। --- ## 🎯 ঘোষণাপত্রের মূল প্রেক্ষাপট এই ঘোষণাপত্রের শুরুতেই বলা হয়েছে—বাংলাদেশের জনগণ উপনিবেশবিরোধী লড়াই, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বহু ত্যাগ স্বীকার করে গণতন্ত্র, সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে বিভিন্ন সরকার, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংসের পথ বেছে নেয় বলে ঘোষণাপত্রে অভিযোগ করা হয়। --- ## ⚠️ গণঅসন্তোষের পুঞ্জীভূত কারণসমূহ ঘোষণাপত্রে মোট ২৭টি ধারায় ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয় কেন এই আন্দ...

জুলাই আমাদের যা দিয়েছে: শাসনকাঠামোর অভূতপূর্ব পরিবর্তন ও আশার আলো

Image
লেখক: মোহাম্মদ আলী  সহকারী প্রধান শিক্ষক  📅 ২ আগস্ট, ২০২৫ --- অনেক পাওয়া না-পাওয়া ও হতাশার মধ্যেও অবশেষে এদেশের শাসনকাঠামোয় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে! এই পরিবর্তনগুলো কেবল সাংবিধানিক উন্নয়ন নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও জনগণের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক বিশাল পদক্ষেপ। --- 🔹 ১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত হচ্ছে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন—এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একনায়কতান্ত্রিক ধারার অবসান ঘটাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। 🔹 ২. সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হচ্ছে নিম্নকক্ষে পাশ হওয়া প্রতিটি আইনের রিভিউ এবং শাসন বিভাগের উপর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষ (Upper House) প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। 🔹 ৩. PR পদ্ধতির বাস্তবায়ন উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (Proportional Representation) চালু হচ্ছে, যা সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে। এটি বহুমতের সংসদ গঠনের পথ খুলে দিচ্ছে। 🔹 ৪. আন্তর্জাতিক চুক্তিতে জনগণের মতামতের গুরুত্ব যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে হলে উচ্চ ও নিম্নকক্ষ উভয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। জনগণকে না জানিয়ে ট্রানজিট, পেগ...

মৃত্যু, অর্থ এবং জীবনের আসল সত্য: আমাদের চোখে না দেখা বাস্তবতা

Image
এক ধনকুবেরের মৃত্যু আমাদের শিখিয়ে দেয় এক কঠিন অথচ প্রয়োজনীয় বাস্তবতা—আমরা সারা জীবন যাদের জন্য কামাই করি, তারা আমাদের মূল্য দেয় না, এমনকি স্মরণও করে না। একদিন এক ধনী ব্যক্তি মারা গেলেন। তার স্ত্রী উত্তরাধিকার সূত্রে ২০০ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন। কিছুদিন পর সেই বিধবা স্ত্রী তার স্বামীরই ড্রাইভারকে বিয়ে করলেন! নতুন বর ড্রাইভারটি মনে মনে বলল— > "এতদিন ভেবেছি আমি আমার মালিকের জন্য কাজ করছি। এখন বুঝলাম, আমার মালিকই তার জীবদ্দশায় আমার জন্য কাজ করে গেছেন।" এই ঘটনাই আমাদের শেখায়, শুধু ধনবান হওয়া জীবনের আসল লক্ষ্য নয়। সুস্থ শরীর এবং দীর্ঘ, শান্তিময় জীবন—এটাই হওয়া উচিত আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। --- 🧠 জীবনের কিছু গভীর উপলব্ধি আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না, যে জিনিসগুলো আমরা অর্জন করি, তার কতটুকুই বা আমরা ব্যবহার করি বা উপভোগ করতে পারি। ✅ দামি মোবাইল ফোনের প্রায় ৭০% ফিচার আমরা কোনো দিনই ব্যবহার করি না। ✅ বিলাসবহুল গাড়ির ৭০% গতি আমাদের কখনোই দরকার হয় না। ✅ প্রাসাদতুল্য বাড়ির ৭০% জায়গা ব্যবহৃত হয় না। ✅ কাপড়ের আলমারির ৭০% পোশাক কোনোদিনই আমাদের গায়ে ওঠে না। ✅ জীবনভর কামাই করা অর্থের ৭০% আমর...

বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা আগের মতোই! কী বলছে মাউশি?

Image
  আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, রাত ১১:১০ মিনিট বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে জুলাই মাসে শুধুমাত্র মূল বেতন বৃদ্ধি পেলেও, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা আগের হারেই বহাল থাকছে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। --- 🔎 বর্তমান পরিস্থিতি মাউশি সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের মোট ৩,৭৮,৪৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জুলাই মাসের বেতনের সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখায় পাঠানো হয়েছে। 👉 এ প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৯ কোটি টাকা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই সারসংক্ষেপে শুধুমাত্র বর্ধিত বেতনের অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 🏥 চিকিৎসা ভাতা এবং 🏠 বাড়ি ভাড়া ভাতা সংক্রান্ত কোনো বিষয় সেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। --- 🗣️ মাউশির মন্তব্য মাউশির ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার-৫, মো. জহির উদ্দিন ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন: > “জুলাই মাসে কেবলমাত্র বেতন বাড়ছে। বাড়ি ভাড়া কিংবা চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।” --- 📌 সারসংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব...

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা: “গ্রেড” শব্দ ব্যবহারে পরিষ্কার নিয়ম ও বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা

Image
📅 প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুলাই ২০২৫ ✍️ লেখক: মোহাম্মদ আলী 📂 বিভাগ: বেতন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা --- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয়ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারিকৃত ২৩ জুলাই ২০২৫ তারিখের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের "গ্রেড" শব্দ ব্যবহারের পদ্ধতি ও প্রণোদনামূলক সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 📝 মূল বিষয়: > বিশেষ সুবিধায় প্রণোদনামূলক “গ্রেড” শব্দের ব্যবহার। অর্থ বিভাগের ১৪৭ নম্বর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ০১/০৬/২০২৫ থেকে উৎপাদনশীলতা বা উদ্ভাবনী কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত ১০% ও ১৫% বেতন সুবিধা প্রদান করা হবে। এটি একপ্রকার "প্রণোদনা মূলক গ্রেড" হিসেবে ধরা হয়েছে। 👉 কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের নামের পাশে Substantive গ্রেড এবং বিশেষ সুবিধা নির্ধারিত গ্রেড-এর পার্থক্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 🔍 করণীয় : ১. Substantive গ্রেড–এ শুধুমাত্র মূল পদমর্যাদা উল্লেখ থাকবে। ২. বিশেষ গ্রেড–এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত গ্রেড আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে (যেমন: টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড ইত্যাদি)।...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দারুণ সুখবর: ১-৫ আগস্টের মধ্যে আসছে EFT পেমেন্ট

Image
জুলাই মাসের বেতন আসছে আগস্টের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর! ২০২৫ সালের জুলাই মাসের বেতনের সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-তে পাঠানো হয়েছে। --- 🔎 সর্বশেষ অগ্রগতি: ২৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার মাউশির ইএমআইএস সেল থেকে বেতনের সারসংক্ষেপ প্রশাসন শাখায় পাঠানো হয়। আগামী সপ্তাহে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখায় প্রেরণ করা হবে। অনুমোদন পেলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী আগস্ট মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে বেতন EFT-এর মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। --- 📊 বিস্তারিত পরিসংখ্যান: প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা স্কুল ২,৯১,৫১৮ জন কলেজ ৮৭,৩৮৯ জন মোট ৩,৭৮,৯০৭ জন --- 🗣️ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: মাউশির ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার-৫ মো. জহির উদ্দিন বলেন: > "স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতনের হিসাব মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে বেতনের প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদন হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগস্ট মাসের ১ থেকে...

২০২৬/২৭ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য বিপদজনক সিলেবাস? ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে আমার উদ্বেগ

Image
বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণীর ইংরেজি পাঠ্যসূচি অভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু মানবন্টন ও টপিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বিশেষ করে বর্তমান নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। 📌 বিষয় ১: সংক্ষিপ্ত সিলেবাস কার জন্য? ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দিবে—এটা আমরা জানি ও মেনে নিচ্ছি। কিন্তু বর্তমান নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালে পরীক্ষা দেবে এবং তাদের জন্য সম্পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশিত। তাহলে প্রশ্ন জাগে—তাদের সিলেবাস ও মানবন্টন কেন ২০২৬ সালের মতই রাখা হয়েছে? 📌 বিষয় ২: ইংরেজি প্রথম পত্রে অস্বাভাবিক মানবন্টন Dialogue Writing – ১৫ নম্বর Story Writing – ১৫ নম্বর একটি পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এত বেশি নম্বর একটি ডায়ালগ বা একটি গল্পে বরাদ্দ করাটা যথাযথ নয়। এতে ইংরেজি প্রথম পত্রে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্কিল যেমন Vocabulary, Synonym-Antonym, Rearranging ইত্যাদি উপেক্ষিত হচ্ছে। 📌 বিষয় ৩: ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে অব্যবহারিক মানবন্টন Composition – ২০ নম্বর Voice, Narration, Completing...

পে কমিশনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুবিধা ও অসুবিধা | শিক্ষক অধিকার ও বেতন বৈষম্য

Image
   বাংলাদেশে প্রতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর গঠিত হয় পে কমিশন, যার প্রধান উদ্দেশ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— এই পে কমিশনের সুবিধা কি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ঠিকমতো পাচ্ছেন? এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিরাট অংশ জুড়ে আছেন। অথচ পে কমিশনের আলোচনায় তাঁরা প্রায়শই প্রান্তিক অবস্থানে থাকেন।  ---  ✅ পে কমিশন থেকে প্রাপ্ত কিছু সুবিধা :  ১. বেতনের আপডেট বা সামঞ্জস্যতা যদিও বিলম্বিত, তবে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী শিক্ষকদের মূল বেতন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এতে ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহে কিছুটা স্বস্তি আসে।  ২. দাবি আদায়ে গণচাপ সৃষ্টি শিক্ষক সংগঠনগুলোর আন্দোলন ও গণমাধ্যমে প্রচারের ফলে পে-কমিশনের আলোচনায় তাঁদের দাবি কিছুটা অন্তর্ভুক্ত হয়।   ৩. আংশিক ভাতার সুবিধা কিছু ভাতা (যেমন উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা) সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ এমপিও শিক্ষকরাও পান, যদিও তা সীমিত।   ---  ❌ পে কমিশনে উপেক্ষিত অসুবিধা :  ১. সরাসরি অন্তর্ভুক্তি নয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকার...

বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া: বৈষম্য নাকি নীতিগত সংকট?

Image
  ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্তে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তাদের সংলগ্ন কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এতে লাখ লাখ কেজি স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে যাচ্ছে, যাদের মধ্যে রয়েছে বহু মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিশু। --- ❌ এই সিদ্ধান্ত কি কেবল প্রশাসনিক? না, এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি শিক্ষানীতিগত বৈষম্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিভিন্ন শহর ও উপজেলা পর্যায়ে, সরকারি বিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু এখন সেই শিশুদেরকে শুধুমাত্র স্কুলের ধরন ভিন্ন হওয়ায় বৃত্তি পরীক্ষার মতো জাতীয় মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত ‘সবার জন্য শিক্ষা’ ও শিশু অধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। --- 📊 প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা: দেশে বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে, যেখানে প্রা...

এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য সপ্তম গ্রেড বাস্তবায়ন হোক

Image
বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত। এসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি তাকে শ্রেণি-শিক্ষাদানসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হয়। 🎓 তবে, বর্তমানে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ৮ম গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা দ্বিতীয় উচ্চতর স্কেল পেয়ে ৮ম গ্রেডেই উন্নীত হয়েছেন। ফলে একই বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক একই গ্রেডে অবস্থান করছেন — যা একপ্রকার প্রশাসনিক ও পেশাগত বৈষম্য সৃষ্টি করছে। 👉 সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকরা যেখানে ৭ম গ্রেডে বেতন পান এবং প্রধান শিক্ষকরা ৬ষ্ঠ গ্রেডে, সেখানে একই দেশের এমপিওভুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য আলাদা নিয়ম বজায় রাখা অন্যায্য ও অসাংবিধানিক --- ✅ কেন ‘সপ্তম গ্রেড’ প্রয়োজন? সহকারী প্রধান শিক্ষকরা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, শ্রেণি পাঠদান ও একাডেমিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন...

স্বামী-স্ত্রী সহকারী শিক্ষকদের জন্য অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরু | বদলি আবেদন ২০২৫

Image
 👫  🗓 প্রকাশের তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৫ ✍️ লেখক: Mamun's Education Blog Team 🔗 https://mamun138.blogspot.com 🔔 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সুসংবাদ! সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব সহকারী শিক্ষক স্বামী-স্ত্রী একসাথে স্থায়ী ঠিকানায় বদলি হতে চান , তাদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরু করেছে। 📌 অনলাইন বদলি আবেদন কখন শুরু? 🗓 আবেদন শুরু : ২০ জুলাই ২০২৫ (রোববার) 🗓 শেষ সময় : ২৯ জুলাই ২০২৫ শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। 🧾 কী বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে? 👉 প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. ফাহিম ইকবাল জাগীরদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে: “যেসব সহকারী শিক্ষক স্বামী-স্ত্রী স্থায়ী ঠিকানায় বদলি হতে ইচ্ছুক, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শূন্য পদের বিপরীতে অনলাইন বদলি কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হলো।” ✅ বদলির শর্তসমূহ: আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ তিনটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে নির্বাচন করতে পারবেন। একাধিক পছন্দ না থাকলে একটি বিদ্যালয়ও বেছে নেওয়া যাবে । বদলির...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা!

Image
তারিখ: ১৯ জুলাই ২০২৫ সূত্র: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জারি করা হয়েছে একটি জরুরি নির্দেশনা, যা ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র বিতরণ সংক্রান্ত। ➡️ বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানোর পর অনেক প্রতিষ্ঠান এগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক সময়মতো বিতরণ করে না, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগমুহূর্তে মানসিক চাপে পড়তে হয় এবং প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটে। 🔍 নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে: 1. কোনো অবস্থাতেই রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা প্রবেশপত্র পরীক্ষার ৭ দিন আগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করতে হবে না। বরং এগুলো যথাসময়ে বিতরণ করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পায়। 2. যারা এখনও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেনি বা যাদের তথ্য অসঙ্গতিপূর্ণ, তাদের বিষয়ে সতর্কভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 3. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন বোর্ড থেকে কার্ড ও প্রবেশপত্র পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে ফেলে। ⚠️ অ...

এমপিও শিক্ষকের ১ম উচ্চতর স্কেল যোগদান থেকে নাকি বিএড স্কেল থেকে হিসাব হবে ? নীতিমালা ২০২১ বনাম ২০১৮

Image
বর্তমানে অনেক শিক্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দ্বিধায় ভুগছেন— ১ম উচ্চতর স্কেল পাওয়ার সময়সীমা গণনা কি বিএড ডিগ্রি অর্জনের তারিখ থেকে শুরু হবে, না কি চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে? এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২০১৮ এর পূর্বে টাইম স্কেল ছিলো মাত্র একটি।  ২০১৮ নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক -কর্মচারীরা টাইমস্কেল পাবে সর্বোচ্চ দুটি। একটা দশ বছর ফূর্তিতে আরেকটি পরবর্তী ৬ বছর ফূর্তিতে।  কিন্তু প্রশ্ন উঠে তাকি যোগদান থেকে হিসাব হবে নাকি বিএড থেকে।  ২০২১ সালের সর্বশেষ "বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা"-এর ১১.৩ ধারা এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।  তার আগে ২০১৮ নীতিমালাটি বিশ্লেষণ করা দরকার। নীতিমালা ২০১৮ এর ১১.৫ ধারায় বলা হয়েছে যে,   ” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির তারিখ হতে ১০(দশ) বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড প্রাপ্য হবেন এবং পরবর্তী ৬ (ছয়) বছর পর একইভাবে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড প্রাপ্য হবেন।  তবে  উল্লেখ থাকে   যে,স্কেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একই স্কেলে যথাক্রমে ...

অতি নাম্বার, আত্মতুষ্টি এবং শিক্ষার আসল মানে: আমরা কি দিশা হারাচ্ছি?

Image
 বাংলাদেশে এখন এমন একটা সময় চলছে যেখানে ৮০-৯০ নম্বর মানেই “অসাধারণ”। আর যদি কোনো শিক্ষার্থী বাংলার মতো সাবজেক্টে ৯৯% নম্বর পায় , তাহলে কি ধরেই নেওয়া হবে—তার খাতায় কোনো একটিও বানান ভুল নেই? তার হাতের লেখা কি দেশের মধ্যে সেরা? অথবা প্রতিটি প্রশ্নে তার উত্তরের মান সমানভাবে চমৎকার? আমাদের বোর্ড পরীক্ষার নম্বর নীতির দিকে তাকালে এই প্রশ্নগুলো খুবই যৌক্তিক। 🏫 প্লে-গ্রুপ থেকে এইচএসসি পর্যন্ত: আত্মতুষ্টির বীজ ছোটদের প্লে, নার্সারি, কেজিতে যখন দেখি সবাই ১০০-এ ১০০, তখন মনে হয় আমরা যেন এক ধরনের 'ভুয়া আত্মতুষ্টি' শেখাচ্ছি। তারা ভাবে— “আমিতো পারফেক্ট!” কিন্তু এই ‘পারফেকশন’ কি শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য? এরপর এই সংস্কৃতি গড়িয়ে যায় এসএসসি-এইচএসসি পর্যন্ত। ১৩০০ তে ১৩০০ পেলেই কি সব শেষ? না। বরং এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত ছিল— নিজেকে আরও জানতে চাওয়া, উন্নতির জায়গা খুঁজে বের করা, আর বিচারক্ষমতার পরিপক্বতা গড়ে তোলা। --- 📊 প্রশ্ন তুলুন, নম্বর নয়! > “একদিকে ৩২ পেলে পাশ দেন না, আরেকদিকে ৭৯ দিয়েও ৫ টা বিষয়ের এ+ আটকান!” এই বৈষম্যমূলক মনোভাব শিক্ষার্থীদের ন্যায়বোধকে আঘাত করে। তারা ভাবে: “আমি এত কষ্ট করে...

২০২৫-এ সেরা শিক্ষার্থীদের সম্মানে ব্যতিক্রমী আয়োজন: উপজেলাভিত্তিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

Image
বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলা ও থানাভিত্তিক সেরা ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করার জন্য আয়োজন করা হচ্ছে এক ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এটি বাস্তবায়ন করছে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SEDP)-এর আওতায় পরিচালিত পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস (PBGSFI) স্কিম --- 🎖️ পুরস্কারে যা থাকছে: সেরা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে: ✅ নগদ অর্থ পুরস্কার (ব্যাংক একাউন্টে ইতিমধ্যেই প্রেরিত) ✅ ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র (উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসে পৌঁছে গেছে) ✅ আনুষ্ঠানিক সম্মাননা অনুষ্ঠান এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শুধু সম্মানিতই করবে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার উৎসও হবে। --- 📅 অনুষ্ঠানের সময়সূচি: 📌 ১৬ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই ২০২৫ এর মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও থানায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 📋 DSHE কর্তৃক প্রেরিত নির্দেশনা অনুসারে অনুষ্ঠান আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। --- 💰 বাজেট ও বরাদ্দ: আয়োজনে ...

২০২৩ সালের অভ্যন্তরীণ অডিট উপকমিটি না কি ২০২৪ সালের অর্থ উপকমিটি? কোনটি বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বৈধ?

Image
  📅 প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুলাই, ২০২৫ ✍️ লেখক: মোহাম্মদ আলী 🔍 প্রেক্ষাপট: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে—একই কাজের জন্য দুই রকম উপকমিটি: ২০২৩ সালের “স্বচ্ছতার নীতিমালা” অনুযায়ী গঠিত অভ্যন্তরীণ অডিট উপকমিটি ২০২৪ সালের “প্রবিধান” অনুযায়ী গঠিত অর্থ উপকমিটি এই দুটি উপকমিটির কাজ প্রায় একই হলেও গঠনের পদ্ধতি, কর্তৃত্ব এবং বৈধতার দিক দিয়ে রয়েছে ভিন্নতা। 📘 ২০২৩ সালের "অভ্যন্তরীণ অডিট উপকমিটি" গঠিত হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির মনোনীত ৩ জন সদস্য দ্বারা। এদের মধ্যে অবশ্যই একজন দপ্তর বা অভিজ্ঞ শিক্ষক (যিনি কমিটির সদস্য নন) থাকতে হবে। প্রতিবছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অডিট প্রতিবেদন দিতে হয়। এটি ছিল "স্বচ্ছতার নীতিমালা ২০২৩" এর আওতায় একটি পদক্ষেপ। 📗 ২০২৪ সালের "অর্থ উপকমিটি" এটি গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক গঠিত হয়। কমিটিতে ৩ জন সদস্য , যাদের মধ্যে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক/প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্য প্রতিনিধি থাকবেন। কমিটি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় নিয়মিত পরীক্ষা করে প...

গণিতে পরীক্ষা দিলেও তিন বিষয়ে ফেল! ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

Image
📅 প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুলাই, ২০২৫ ✍️ লেখক: মোহাম্মদ আলী 📌 ঘটনাটি সংক্ষেপে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নাজমুল ইসলামের ফলাফল দেখে হতবাক সে নিজেই। গণিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে একাই, অথচ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে তিনটি বিষয়ে ফেল—গণিত, কৃষি ও ট্রেড-২। একই অবস্থা আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীর। 📣 শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একজন, নাজমুল ইসলাম জানায়: “২০২৪ সালে গণিতে ফেল করেছিলাম। তাই ২০২৫ সালে শুধু গণিতে ফরম পূরণ করে পুনরায় পরীক্ষা দিই। কিন্তু এবার ফলাফলে দেখি গণিতের পাশাপাশি কৃষি ও ট্রেড-২তেও ফেল দেখানো হয়েছে। অথচ আমি শুধু গণিতেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম!” শুধু নাজমুল নয়—এই সমস্যায় পড়েছে টুটুল, নাহিদুল ইসলাম নয়ন, লিমনসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানালেও কোনও কার্যকর সমাধান মেলেনি। 👪 অভিভাবকদের উদ্বেগ এই ফলাফলের কারণে শিক্ষার্থীরা যেমন মানসিক চাপে পড়েছে, তেমনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও। তারা জানতে চান— “যে বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া হয়নি, সেই বিষয়ে ফেল কীভাবে দেখানো হলো?” 📚 বোর্ড ...